রান্নাঘরের বিন্যাস কেমন হওয়া উচিত-Kitchen Layout

Published on Home Decor
home-decor-kitchen-flag-bangladesh.jpg

রান্নাঘর আমাদের ঘরের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কারণ একজন নারী তার জীবনের অনেকটা সময় রান্নাঘরে পার করে।তবে রান্নাঘরে খাবার বানাতে এখন নারীর পাশাপাশি পুরুষ এবং বাচ্চাদের সম্পৃক্ততাও বেড়েছে।ফলে ঘরের বড় সদস্যদেরকে রান্নাঘরের বিন্যাস কেমন হওয়া উচিত সে ব্যাপারে যথেষ্ট খেয়াল রাখতে হয়।

মানুষ সময়ের সাথে সাথে অনেক আধুনিক প্রযুক্তি ও পন্যের ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়েছে। এমনকি রান্নাঘরকে সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখার ক্ষেত্রেও প্রযুক্তি ও আধুনিকতার ব্যবহার ব্যাপক হারে শুরু করেছে।যদিও আমাদের দেশের গ্রাম বা মফস্বল শহরের অনেক জায়গায়ইএখনও রান্নাঘর বাসগৃহ থেকে কিছুটা দুরেই। এসব রান্নাঘরের গঠনেও আধুনিকতার ছোঁয়া নেই।তবে বর্তমানে নতুন গৃহ নির্মান করছেন যারা তারা রান্নাঘর কে বাসগৃহের সাথেই রাখছেন এবং নতুনত্বের ছোঁয়া রাখতে চেষ্টা করছেন।

রান্নাঘর প্রতিটি বাড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও উষ্ণতম স্থান৷ প্রতিদিনই অসংখ্যবার ব্যবহার করা হয় রান্নাঘর। একটি বাসার রান্নাঘরের সাথে অন্যান্য রুমের কোনো তুলনা হয় না।তাই রান্নাঘরের সাজসজ্জা হওয়া উচিত খুবই পরিকল্পিত এবং সময়োপযোগী। একটি সুন্দর রান্নাঘরে গেলে মনটাও ভালো হয়ে যায়, বেড়ে যায় কাজের উদ্যম।একটি গোছানো রান্নাঘরে খাবার রাঁধতে গেলে মজাদার রান্নাও সহজে ও তাড়াতাড়ি হয়।কারন সুন্দর ও গোছানো রান্নাঘরে সব কিছু কিন্তু হাত বাড়ালেই পাওয়া যায়। ফলে রান্নায় সময়ও কম লাগে।

একটি সাজানো গোছানো রান্নাঘর তৈরিতে দরকারি নতুন নতুন আসবাব ও জিনিসপত্র এখন বাজারে অনেক পাওয়া যাচ্ছে।যেগুলোর ব্যবহার রান্নাঘরের সৌন্দর্য্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আবার খুব বেশি আসবাপত্র,তৈজসপত্র বা রান্নার সরঞ্জাম রান্নাঘরের সৌন্দর্য্য নষ্ট করে দেয়।তাই এ ব্যাপারে প্রয়োজন সৃজনশীলতা ও দক্ষতার পরিচয় দেয়া।চলুন জেনে নিই কেমন হওয়া উচিত রান্নাঘরের সাজসজ্জা .

১.রান্নাঘরের আয়তন-The size of the kitchen

একটি রান্নাঘরের আয়তন কতটুকু তার উপরে অনেক কিছু নির্ভর করে।এ আয়তনের উপর নির্ভর করে রান্নাঘরের ডেকোরেশন করতে হয়। বিশেষ করে কোন সাইজের আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র কিনতে হবে এটা রান্নাঘরের আয়তনের উপর নির্ভর করে।

যেমন আপনার রান্নাঘরের আয়তন যদি কম হয় তাহলে আপনার রান্নাঘরের নকশা সমান্তরালে রাখা ভাল। কিংবা সোজাও রাখতে পারেন। তবে চারকোনা করতে গেলেই রান্নাঘরের জায়গা ভাগ হয়ে যাবে। আর তখন এটি অনেক ছোট দেখাবে। আর আপনার রান্নাঘর যদি একটু বড় আকারের হয় তাহলে ইংরেজী ‘L’ এর মত কিংবা ‘U’ এর মত নকশা করলে খুব আকর্ষণীয় দেখাবে।আর যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে এরকম একটি রান্নাঘরের জুড়ি নেই।

২.পরিকল্পিত বৈদ্যুতিক সংযোগ এর ব্যবস্থা-Electricity Connection

রান্নাঘরের বিন্যাস কেমন হওয়া উচিত তা রান্নাঘর নকশা করার আগে ঠিক করে নিলে ভালো হয়।কারন এর আগে নতুন অ্যাপার্টমেন্টে বা বাড়িতে পরিকল্পিত বৈদ্যুতিক সংযোগের ব্যবস্থা করতে হবে। আজকাল নতুন নতুন অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে রান্নাঘর করা হয় নকশা করে তাই যে কোনো সময় একটি বাড়ির নকশা পরিবর্তন করা যায় না।

আপনি যদি বাড়ির নকশা করার সময়ই রান্নাঘরে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার কথা না ভেবে রাখেন পরবর্তীতে আপনাকে দারুন ঝামেলা পোহাতে হবে। পর্যাপ্ত আলো, বাতাস, এগজস্ট ফ্যান, ওভেন, রেফ্রিজারেটর, ইনডাকশন, ব্লেন্ডার এসব জিনিস আজকাল রান্নাঘরের নিত্য প্রয়োজনীয় সঙ্গী। এসব হোম এপ্লায়েন্সের সংযোগ এর জন্য প্রয়োজন সুন্দর ও মজবুত বৈদ্যুতিক বোর্ড ও সকেট।তাছাড়া এ ঘরটি উষ্ণ বলে এখানে পাখার ব্যবস্থা ও রান্নার ধোঁয়া,ঝাঁজ দূর করতে চিমনি বা এগজস্ট ফ্যান লাগাতে হলেও বৈদ্যুতিক সংযোগের ব্যবস্থা রাখা উচিত।

৩.পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে-Natural Air

home-decor-granite countertops-flag-bangladesh.jpg

রান্নাঘর নকশার সময় দক্ষিণ-পুর্ব দিকে এটি রাখা উচিত।আর বড় জানালা,ভেন্টিলেশনের জন্য ফাঁক রাখা উচিত।বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকলে রান্নার গন্ধ সারা ঘরে ছড়াতে পারে না।কারন বদ্ধ রান্নাঘরের পরিবেশ স্যাঁতসেতে হয় যা রাঁধুনির স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আর এরকম জায়গায় খাবার রাখলে খাবারও বেশি ভালো থাকে না।

৪.রান্নাঘরে কেমন রং হলে ভালো হয়-Kitchen Color

home-interior-design-flag-bangladesh.jpg

রান্নাঘরের বিন্যাস কেমন হওয়া উচিত সে প্রশ্নের উত্তরে সবচেয়ে আগে আসে রান্নাঘরের দেয়ালে রং এর ব্যবহার।রান্নাঘর আসবাবপত্র ও তৈজসপত্র দিয়ে সাজিয়ে ফেললে তখন রান্নাঘরের দেয়াল রং করা কঠিন হয়ে যায়। নতুন অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে এরকম সমস্যা কম হয়,তবে যারা নতুন করে পুরনো রান্নাঘর সাজাতে চাচ্ছেন তাদেরকে সব আসবাব ও তৈজসপত্র সরিয়ে রং করতে হবে।

কি রং করবেন সে ব্যাপারে অনেক পরামর্শ রয়েছে।কালো বাদ দিয়ে সব রংকেই রান্নাঘরের দেয়াল সাজানোর জন্য ব্যবহার করা যায়।রান্নাঘরে ধবধবে সাদা রং করলে স্নিগ্ধতার প্রকাশ ঘটে।তবে ধোঁয়া ও তেল,মশলার ঝাঁজে সাদা রং বেশিদিন তার স্নিগ্ধতা ধরে রাখতে পারে না।তবে সাদার আবার বিভিন্ন রকম যেমন চাপা সাদা,ডিমের খোসার সাদা রং,ধূসর সাদা,ঘিয়া ও ক্রিম রঙের ব্যবহারও বেশ চলছে।

আবার ভিন্নতা আনতে গোলাপি ও সবুজের মিশেল ব্যবহার করে দেখতে পারেন।এক্ষেত্রে দেয়াল হবে গোলাপি আর এর বৈপরীত্যে দরজা ও জানালায় সবুজ রং থাকলে খুব মানাবে।বর্তমানে নতুন আরও রং এর কম্বিনেশন দেখা যাচ্ছে। সেটি হল দেয়াল ও ছাদে আকাশি নীল রং ব্যবহার করে এর সাথে সাদা রং এর আসবাবপত্র রাখলে বেশ ফুটে ওঠে।এরকমই আরও কম্বিনেশনের রং হল দেয়াল ও ছাদ হালকা হলুদ সাথে ধূসর রঙের আসবাবপত্র। অবশ্য রান্নাঘরের চার দেয়ালের বিপরীত দেয়ালে দুই রঙের ব্যবহারও নতুনত্ব আনবে।

টকটকে লাল, হলুদ বা নীল অনেকেই পছন্দ করেন না।তবে রান্নাঘরের ছাদে সাদা রঙের সাথে দেয়ালে হালকা লাল,আকাশ নীল বা হালকা সবুজের ব্যবহার অন্যরকম পরিবর্তন আনবে।বিভিন্ন দেয়ালে কয়েকটি রঙের ব্যবহার বা হালকা একটি রঙের ব্যবহার সাথে এক রঙা কেবিনেট,ড্রয়ার ও অন্যান্য আসবাব ব্যবহারে মন ভরে যাবে।যা আপনার ক্লান্তি দূর করে রান্নায় আরও বেশি আগ্রহী করে তুলবে।আর রান্নাঘরের এমন পরিবর্তন আপনার আভিজাত্যও ফুটিয়ে তোলে।

৫.ড্রয়ার,কেবিনেট ও তাকের ব্যবস্থা রাখা-All necessary things

kitchen-ideas-flag-bangladesh.jpg

একটি পরিকল্পিত রান্নাঘরের অন্যতম আসবাব হল এখানে কাঠ,কাঠের বিকল্প পার্টেক্স বা মেলামাইন বোর্ড বা ধাতুর তৈরি ড্রয়ার,কেবিনেট ও তাকের ব্যবস্থা রাখা।এটি রান্নাঘরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস। আর এই আসবাবগুলো উপরের দিকে স্থাপন ও বাড়ানো যায়।ফলে জায়গার অপচয় হয় কম।আর রাঁধুনিরা চায় না তার রান্নাঘরের জিনিসগুলো এলোমেলো হয়ে থাকুক। প্রয়োজনীয় জিনিস গুলো প্রয়োজনের সময় হাতের কাছে খুঁজে পেতে তাক,কেবিনেটের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে গেছে।কখন কোন জিনিস টা কোথায় পাওয়া যাবে সে বিষয়ে ড্রয়ার বা কেবিনেট এর গুরুত্ব বলে বোঝানো সম্ভব না।এসব আসবাবপত্র স্থাপনের মাধ্যমে বুঝা যায় রান্নাঘরের বিন্যাস কেমন হওয়া উচিত।

৬. রান্নাঘরের মেঝে ও দেয়ালে লাগানোর অনুষঙ্গ-Kitchen walls and other instrument

kitchen-room-design-flag-bangladesh.jpg

রান্নাঘরের দেয়ালে বা মেঝেতে বা দু জায়গাতেই টাইলস এর ব্যবহার খুব জনপ্রিয়। এর ফলে রান্নাঘরে দাগ, ময়লা তেমন সৃষ্টি হয় না কারন টাইলসের উপর লেগে থাকা তেল,মশলা বা অন্য কিছুর দাগ ও রং সামান্য মুছলেই উঠে যায়।বর্তমানে টাইলসের ডিজাইন ও আকারে ব্যাপক পরিবর্তন ও নতুনত্ব এসেছে।রান্নাঘরের জন্য তৈরি করা হচ্ছে আলাদা ডিজাইন ও শেডের টাইলস।যা রান্নাঘরের আভিজাত্য ফুটিয়ে তোলে।এছাড়াও এখন নতুন আবিষ্কার হচ্ছে অস্থায়ী স্টিকার ওয়ালপেপার।এগুলো কিন্ত আপনি নিজেও লাগাতে পারেন কাগজের মত কোন কারিগর ছাড়াই।এগুলো দেখতে যেমন সুন্দর তেমন পরিষ্কার করাও সহজ।

৭.রান্নাঘরের সিংক-Kitchen Sink

kitchen-cabinet-flag-bangladesh.jpg

রান্নাঘরের বিন্যাস কেমন হওয়া উচিত এমন ভাবনায় আমরা আরেকটি জরুরি জিনিসের কথা বলছি।রান্নাঘরের ধোয়া মোছার সব কাজটি যেখানে করা হয় সে জিনিসটার নাম সিংক ।দিন বদলের সাথে সাথে সিংকের ডিজাইন ও ধরনেও পরিবর্তন এসেছে।ডাবল সিংক বা সিংগেল সিংক,আবার চাইলে কেউ সিংকের পরিবর্তে ভিন্ন শেপের সিরামিক বেসিনও ব্যবহার করে থাকেন।সিংক সাধারণত স্টেইনলেস স্টিলের হয়ে থাকে। বাজারে নতুন নতুন নকশার সিংক রয়েছে যা ব্যবহার করে আপনার ধোয়া ও পরিষ্কারের কাজ খুব সহজে সারতে পারেন।এছাড়া এসব সিংকে যুক্ত থাকে দুটো পানির কল বা দুটো হাতলযুক্ত একটি কল যার একটি গিজারের সাথে যুক্ত থেকে গরম পানি সরবরাহ করে এবং অপরটি ঠান্ডা পানি।

৮. রান্নাঘরে হোম এপ্লায়েন্স রাখার স্থান-Home appliances in the kitchen

রান্নাঘরের বিন্যাস কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ের সাথে হোম এপ্লায়েন্সগুলো রাখার উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করার বিষয়টিও সম্পর্কিত।কারণ রান্না করতে আজকাল বৈদ্যুতিক বিভিন্ন যন্ত্রের ব্যবহারে রান্না হয়েছে সহজ ও তাড়াতাড়ি।

মশলা বাটা, খাবার গরম করা,দ্রুত খাবার সিদ্ধ করা,রুটি বানানো,বেকিং এর জন্য নানা ধরনের যন্ত্রপাতি আজ রান্নার কাজে ব্যবহার হচ্ছে। আর এসব যন্ত্র যেহেতু রান্না করতেই দরকার হয় তাই এগুলো রাখার জায়গাটা রান্নাঘরেই রাখতে হয়।কেবিনেট,ড্রয়ার, কুকিং টপ বা চুলার পাশে,আলাদা র ্যাকের উপরে এসব হোম এপ্লায়েন্স রাখলে গৃহিনীর সুবিধা হয়।

৯. চুলা,ফ্রিজ ও তৈজসপত্র কোথায় রাখব-Where to keep the stove, fridge and utensils

home-decor-countertops-flag-bangladesh.jpg

রান্না করতে সবচেয়ে দরকারি জিনিস হল চুলা।চুলায় খাদ্য উপকরণ কে তাপ দিয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলাকে রান্না বলি আমরা।আধুনিক সুসজ্জিত রান্নাঘরে গ্যাস এবং বৈদ্যুতিক চুলায়ই রান্না করা হয়ে থাকে।তবে কাঠ ও বিকল্প জ্বালানি দিয়ে মাটি বা সিমেন্টের তৈরি চুলায় গ্রাম,মফস্বল শহর ও খোলা জায়গায় রান্না হয়ে থাকে।বর্তমানপ বাজারে কাচ বা স্টেইনলেস স্টীলের গ্যাসের চুলা বা বার্নার পাওয়া যায় যা দেখতে খুব আকর্ষণীয় এবং সহজে পরিষ্কার করা যায়।

kitchen-room-idea-flag-bangladesh.jpg

আর খাদ্য সংরক্ষণে ফ্রিজ হল অন্যতম উপাদান যা রান্নাঘর বা রান্নাঘরের বাইরে কাছাকাছি অবস্থানে রাখা হয়।ফ্রিজ চালাতে বিদ্যুৎ সংযোগ ও বাতাস চলাচল প্রয়োজন তাই এটিকে রান্নাঘরের এরকম জায়গায় রাখলে ভালো হয় যেখানে বাতাস চলাচল আছে এবং বৈদ্যুতিক বোর্ডের সংযোগ আছে।সুন্দর ফুলেল প্রিন্ট, দুই দরজার এবং বেশি উচ্চতার ফ্রিজের চাহিদা এখন বাজারে প্রচুর। যা রান্নাঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে সাহায্য করে।রান্নাঘরের তৈজসপত্র যেমন হাড়ি-পাতিল,কড়াই- খুন্তি,ফ্রাইংপ্যান,তাওয়া,থালাবাটি,ছুরি,দা,বটি,শীল-নোড়া,মশলার কৌটা,বালতি,গামলা ইত্যাদির ব্যবহার যখন তখন হয়ে থাকে।তাই এগুলো পরিষ্কার করে কেবিনেটে ঢুকিয়ে রাখলে সবচেয়ে ভালো হয়।কারণ এগুলো আকারে ছোট হওয়ায় একজায়গায় গুছিয়ে রাখা যায় না।এগুলোকে ড্রয়ার,তাক ও কেবিনেটে গুছিয়ে রাখলে ভালো হয়।

১০. রান্নাঘরের বিন্যাসে আরও কিছু জিনিসের নাম ও ব্যবহার-Other things

রান্নাঘরের বিন্যাস কেমন হওয়া উচিত এমন প্রশ্নের উত্তরে আরও কিছু তথ্য দিচ্ছি।উপরে যেসব জিনিসের কথা বলেছি সেগুলো ছাড়াও আরও কতগুলো ছোট ছোট জিনিসের ব্যবহারে রান্নাঘরের সাজসজ্জা বেড়ে যাবে। রান্নাঘরের দরজা ও জানালা যদি গ্লাসের হয়ে থাকে তো সেখানে প্লেইন গ্লাসের পরিবর্তে বিভিন্ন রঙিন গ্লাস ব্যবহার করা যায়। এতে অল্পতেই সুন্দর একটা পরিবর্তন আসে। দরজায় সুন্দর প্রিন্টের পর্দার ব্যবহার করা যেতে পারে।আয়তনে বড় রান্নাঘরে ডাইনিং টেবিল বা ছোট গোল টেবিল ও চেয়ার রাখলে ঘরের সবাই রান্নাঘরেই খাওয়ার কাজটা সেরে ফেলতে পারে।এতে গৃহিণীর সময় বাঁচে ও ঝামেলা কমে।

interiors-home-flag-bangladesh.png

রান্নাঘরে তৈজসপত্র বেশি হয়ে গেলে তা যদি কেবিনেটে রাখার জায়গা না থাকে তবে রান্নাঘরের ফাঁকা দেয়ালে হুক লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা যায়।যেমন ছুরি,চামচ,খুন্তি ইত্যাদি।এছাড়া ঝুলন্ত তাক দেয়ালে স্থাপন করে অগোছালো থালাবাটি,কৌটা গুছিয়ে রাখা যায়।

কাপড়,তোয়ালে,মোছামুছির ন্যাকড়া ইত্যাদি সাজিয়ে রাখতে দেয়ালে স্টীলের স্ট্যান্ড সেট করা যেতে পারে।এছাড়া পলি ব্যাগ,কাগজের ঠোঙা,শপিং ব্যাগ বা বাজারের ব্যাগ ভাজ করে বড় ও সুন্দর দেখতে একটি ব্যাগে ভরে দরজার পিছনে অস্থায়ী হুকে ঝুলিয়ে রাখলে ভালো হয়।

রান্নাঘরের সৌন্দর্য্য বাড়াতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হল যেকোন ছোট গাছ বা ফুলের টব রাখা।এটি একদিকে যেমন আমাদেরকে সবুজ প্রকৃতির ছোঁয়া এনে দেয় তেমনি রান্নাঘরে অক্সিজেন সরবরাহে সামান্য হলেও সাহায্য করে।

পরিশেষ কথা-Conclusion

রান্নাঘরের সাজসজ্জা বাড়াতে সবচেয়ে বেশি দরকার সুন্দর পরিকল্পনা ও বুদ্ধির ব্যবহার।কারন রান্নাঘরের সাজসজ্জায় এখন যেসব আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসের ব্যবহার শুরু হয়েছে তা বেশিরভাগই ব্যয়সাপেক্ষ।অনেকে চাইলেও এসব পুরো ডেকোরেটিভ জিনিস কিনে রান্নাঘরের সাজসজ্জা সম্পুর্ন করতে পারে না।তাহলে কি এর অভাবে রান্নাঘরের সাজ অপুর্ন থেকে যায়? তা কিন্তু নয়।প্রত্যেকেই তার বাজেট বুঝে চলবে।অবশ্য সব বাজেটের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আজকাল অনেক ইন্টেরিয়র কোম্পানি রান্নাঘর সাজিয়ে দিচ্ছে। দোকানেও পাওয়া যাচ্ছে কম বেশি সব দামের জিনিস।রান্নাঘরের বিন্যাস কেমন হওয়া উচিত সে প্রশ্নের উত্তর নিশ্চয়ই এখন পুরোপুরি পেয়ে গেছেন।